শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০||২৭ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ০৭:১৮ পূর্বাহ্ন  coxbazar24news@gmail.com

প্রচ্ছদ » কক্সবাজার সংবাদ » প্রকাশিত সংবাদে কাউন্সিলর সাহাব উদ্দিন সিকদারের বক্তব্য

প্রকাশিত সংবাদে কাউন্সিলর সাহাব উদ্দিন সিকদারের বক্তব্য

আপডেট : ৩০ জুন, ২০২০ , সময়ঃ ১২:১৩ অপরাহ্ন

কাউন্সিলর সাহাব উদ্দিন সিকদার

প্রসবিজ্ঞপ্তিঃ
কক্সবাজার পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের জনপ্রিয় কাউন্সিলর সাহাব উদ্দিন সিকদারকে নিয়ে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, উদ্দোশ্য প্রণোদিত এবং মানহানিকর প্রোপাগান্ডা চলানো হয়েছে গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার থেকে। একই সাথে কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি কাল্পনিক ও মর্যদাহানিকর উদ্ভুট বিবৃতি প্রদান করা হয়েছে। যেখানে দায়িত্বশীল নেতাদের দায়িত্বহীনতার পরিচয় বহণ করে। স্বার্থহাসিল করতে না পেরে অনেকটা প্রতিশোধ নিতেই বিবৃতির ভাষায় ফুটে উঠেছে। যা অনভিপ্রেত আর অপ্রত্যাশিত।

কাউন্সিলর সাহাব উদ্দিন সিকদার বলেন, গত ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চালুকৃত ‘ওএমএস’ বিতরণের দিন ধার্য্য ছিলো। যেহেতু করোনা মহামারি নিয়ে কক্সবাজারে লকডাউন চলছে। সেহেতু ওএমএস রেশনের প্রতি সাধারণ মানুষের বাড়তি গুরুত্ব ছিলো। এ পরিস্থিতিতে আমি কক্সবাজারের জনপ্রিয় জননেতা আমাদের অভিভাবক পৌরসভার সম্মানিত মেয়র জনাব, মুজিবুর রহমান’র অনুরোধে আমি ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মানিত সভাপতি জনাব সাইফুল ইসলামকে ১০০টি রেশন কার্ড বরাদ্ধ দিই। যা না দিলেও তাঁর করার কিছুই ছিলোনা। বরং আমি সবকিছু ভুলে গিয়ে বড়ভাইকে সম্মান করিছি। আমি মনে করেছি হতদরিদ্র, গরিব, দুস্থ মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে অন্তত তেরএগারো করবেন না। কিন্তু তিনি তা না করে নিজের পরিবার পরিজন এবং সামর্থবান লোকজনকে রেশন কার্ড বিতরণ করেছেন। যাতে প্রকৃত হতদরিদ্র মানুষ রেশন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আর প্রশ্নবিদ্ধ করছেন সরকারের মহৎ উদ্যোগ। আমার ধারনা জনাব সাইফুল ইসলাম চৌধুরী নির্বাচনে আমার কাছে ১২০০ ভোটে পরাজিত হওয়ার প্রতিশোধ নিতেই এমন বিতর্কিত কাজটি করেছেন।

তাঁর বুঝা উচিৎ ছিলো এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দ। গরিব, অসহায়, দুস্থ এবং হতদরিদ্র লোকজনের জন্য এটি বরাদ্দ দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। আমাকে প্রশ্ন বিদ্ধ করতে গিয়ে তিনি ইচ্ছে করে কি তাহলে সরকারের মহৎ কাজটি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন -? কার স্বার্থে তিনি এমন হীনমান্য কাজ করেছেন সেটি আমার বোধগম্য নয়। কক্সবাজারবাসির কাছে বিষয়টি পরিষ্কার কিনা আমি জানি না।
রেশনের চাল বিতরণের সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম বলে কার্ড দুটি জব্দ করতে পেরেছি। তাও আবার ভিন্ন একটি ওয়ার্ডের বসবাসকারি রোহিঙ্গা। তারা আমার কাছে রেশন কার্ড ক্রয়ের কথা স্বীকারও করেছেন।
মূলত এরপর থেকেই আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার আর প্রোপাগান্ডা চলানো হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে যেসব কথা প্রচার করা হচ্ছে তার কোনটিই সত্য নয়, বরং চরম অসত্য, মিথ্যা আর কাল্পনিক।
এদিকে কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জনাব নজিবুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক জনাব উজ্জল কর একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তাদের বিবৃতি বড়ই উদ্ভট, জঘন্য মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়।
আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে আমি ইয়াবার মতো জঘণ্য মাদক ব্যবসার করি বা সেবন করি তাহলে কক্সবাজার ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাবো। মূলত পৌর আওয়ামী লীগের সিনিয়র কিছু নেতৃবৃদ্ধ বিভিন্ন কারণে আমার উপর ক্ষুদ্ধ হয়েছেন। যারফলে তারা এমন মিথ্যাচার করেছেন। গত রমজানে ও করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকেই সরকারি সহযোগিতার পাশাপাশি আমি নিজস্ব তহবিল বা আমার বাবার নামে সৃষ্ট ‘মাস্টার মো: হোসেন ফাউন্ডেশনের’ পক্ষ থেকে প্রায় ১২ হাজার পরিবারের মাঝে ২০ কেজি চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য দিয়েছি। সে সময় পৌর আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা তাদের সাথে সমন্বয় করার জন্য আমাকে বারবার অনুরোধ করেন। কিন্তু আমি তাদের বলেছি এটি আমার নিজস্ব সহযোগিতা। এখানে আপনাদের সাথে সমন্বয় করার কোন সুযোগ নেই। এছাড়াও তারা বিভিন্ন সময় আমার কাছে সহযোগিতা চাইতো। যা আমি করি নি। এতে তারা আরো বেশি ক্ষুদ্ধ হন। আমি নিজস্ব তহবিল থেকে ত্রাণ দিলে পৌর আওয়ামী লীগকে কেন সমন্বয় করতে হবে আমার বোধগম্য হয়নি।
পৌর আওয়ামী লীগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে আমি নাকি যুবদল/ছাত্রদলের নেতা ছিলাম। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি আমি এর কোনটিই ছিলাম না। আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় কক্সবাজার শহর স্বেচ্ছাসেবকলীগের আওতাধীন ৫ নং ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি হওয়ার মধ্য দিয়ে। আমি এখনো সে দায়িত্ব সুনামের সাথে পালন করছি। এরপরে আমাকে কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যান সম্পাদকের পদ দেয়া হয়। এখনো সে দায়িত্বে রয়েছি। সম্প্রতি সদ্য সমাপ্ত পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদকের প্রার্থী হিসেবে আমি প্রায় ৪/৫ হাজার নেতাকর্মী নিয়ে সম্মেলনে যোগদান করেছি। তখন তো আমাকে ছাত্রদলের বা যুবদলের কর্মী বলা হয়নি। সেদিন জেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ সিনিয়র নেতাদের অনুরোধে প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করলে ভোটের মাধ্যমে আমি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হতাম। আজ কেন তাদের চোখে আমি ছাত্রদল বা যুবদলের কর্মী হয়ে গেলাম, সেটি প্রশ্ন রইলো সচেতন মহলের প্রতি।
আমাকে ইয়াবা ব্যবসায়ীর গডফাদার হিসেবে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন। কতটা জঘন্য, মিথ্যা আর অপমানজনক তা বলাও মুশকিল। আমার ধারণা নিজেদের স্বার্থহাসিল করতে না পেরে এমনটাই বলেছেন আমার শ্রদ্ধাভজন নেতারা। আমি তাদের জানাতে চাই কক্সবাজার পৌরসভার ৪,৫,৬,৭ নং ওয়ার্ডে আমার পিতার নামে কয়েকশত কোটি টাকার স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। যেখানে প্রতিমাসে দোকান ভাড়া, ঘরভাড়াসহ বিভিন্ন খাত থেকে ২৪/২৫ লাখ টাকা আমাদের আয় হয়। এসব টাকা দিয়ে পরিবারের ভরনপোষনের পাশাপাশি বাবার নামে স্থাপিত ফাউন্ডেশনে জমা হয়। আর উক্ত ফাউন্ডেশন থেকে জনগণকে সেবা করা হয়। আমি জনগণকে ভালবাসি আর জনগণ আমাকে ভালবাসে। মানুষকে সাহায্য করা কি তাহলে অপরাধ ? আমি তো নিধিরাম সর্দার না। মুখ দিয়ে বিশ্ব জয় করতে চাই না। কাজ করতে চাই। জনগণের কল্যাণ করা যদি অপরাধ হয় তবে আমি সে অপরাধ করতে রাজি আছি।


নারীর সাথে একটি ভিডিও নিয়েও মন্তব্য করেছেন। আসলে বিষয়টি আমার একান্ত নিজস্ব বিষয়। আপনি বা আপনারা অপমানিত হওয়ার কিছুই নেই। কারণ তার সাথে আমার শরিয়ত মোতাবেক বিবাহ হয়েছে। যা কক্সবাজারের প্রাণ পুরুষ আমার নেতা পৌরসভার মেয়র জনাব মুজিবুর রহমান করে দিয়েছেন।
আরেকটি কথা বলছি, আমার ভাই কে কোন দল করে সেটি উল্লেখ করেছেন। কক্সবাজার জেলায় অনেকে আছেন যাদের পরিবারে জামায়াত-বিএনপির রাজনীতির সাথে জিড়ত। যেটি আমার নেতারাও জানার কথা। মূল কথা হচ্ছে পৌর আওয়ামী লীগের কিছু নেতা আমাকে ব্যবহার করতে না পেরে আমার পেছনে লেগেছেন। তাদের স্বার্থের পরিপন্থী হওয়ায় নানা মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। তাদের সাথে দ্বিমত হলেই যে কাউকে জামায়াত-বিএনপির তকমা দেন আমার নেতারা। অথচ খোঁজ নিলে দেখা যাবে তারাই প্রকৃত জামায়াত বিএনপির এজেন্ট। কক্সবাজারের মানুষ সবাইকে চিনে। ক্ষমতায় আছেন তাই অনেকে মুখ খুলে না। কিন্তু সবকিছুর সীমা রয়েছে। আল্লাহও সীমা লঙ্গনকারীকে প্রচন্দ করেন না।
আর জনাব সাইফুল ইসলাম চৌধুরী আমার সাথে প্রতিদ্বন্ধিতা করে হেরে যাওয়ার প্রতিশোধ নিতে হীনমান্যতার পরিচয় দিয়েছেন। আর কাউন্সিলর ইয়াসমিন আক্তার তার দেয়া রেশন কার্ড অপাত্রে কন্যাদান করেছেন। আমি এসব কিছুর প্রতিবাদ করেছি বলেই আজ আমার নামে কাল্পনিক, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যে প্রণোদিত ও মানহানিকর অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। পৌর আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের কাছে এ রকম দায়িত্বহীন আচরনে আমি হতাশ হয়েছি। তাই ভিত্তিহীন উক্ত সংবাদের কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সাথে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের কাছে অনুরোধ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া রেশন নিয়ে যে জঘন্য মিথ্যাচার আর প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে তার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

প্রতিবাদকারি
সাহাব উদ্দিন সিকদার
পৌর কাউন্সিলর ৫ নং ওয়ার্ড, ত্রাণ ও সমাজ কল্যান সম্পাদক কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ, সভাপতি আলির জাঁহাল ইসলামিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসা, সভাপতি, বৃহত্তর আলীর জাহাল ব্যবসায়ী সমিতি, সদস্য সাহিত্যিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ, সভাপতি বিজিবি ক্যাম্প বাইতুল আমান জামে মসজিদ, উপদেষ্টা, উত্তর এসএম পাড়া জামে মসজিদ, চেয়ারম্যান মাস্টার মো: হোসেন ফাউন্ডেশন ।