শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০||২৭ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন  coxbazar24news@gmail.com

প্রচ্ছদ » কক্সবাজার সংবাদ » জীবন্ত কিংবদন্তি শিক্ষক আব্দুল হালিম

জীবন্ত কিংবদন্তি শিক্ষক আব্দুল হালিম

আপডেট : ০৮ নভেম্বর, ২০১৯ , সময়ঃ ০৯:২০ পূর্বাহ্ন

ফাইল ছবি


নিজস্ব প্রতিনিধি::

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি সৈকত নগরী কক্সবাজারে যাঁরা শিক্ষা বিস্তারে অনন্য অবদান রেখেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র,জীবন্ত কিংবদন্তি জনাব আব্দুল হালিম স্যার। যিনি ১৯৬৬ সাল থেকে অধ্যাবদি শিক্ষার সাথে জড়িত। কিংবদন্তি এই গুণী শিক্ষক ১২/০২/১৯৪৬ সালে চকরিয়া উপজেলার কাহারিয়া ঘোনায় এক সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম বজুরুজ মেহের মাতার নাম আমেনা বেগম। তিনি ১৯৬২ সালে চকরিয়ার ইলিশিয়া জমিলা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় হতে বাণিজ্য বিভাগে এসএসসি,১৯৬৪ সালে চট্টগ্রাম বোয়ালখালী কানুনগো পাড়া কলেজ হতে বাণিজ্য বিভাগে এইচএসসি,১৯৬৬ সালে একই কলেজ থেকে বি কম এবং ১৯৬৬ সালে কৃতিত্বের সাথে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন।
বি কম শেষ করার পরে তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পেশা শিক্ষকতায় যোগদান করেন। ১৯৬৬ সালের ১০ই অক্টোবর তিনি তাঁর প্রথম কর্মস্থল হাটহাজারী কাটিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। সেখানে তিনি  সুনামের সহিত ৬ই ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন। ১৯৬৯সালের ১১ ই ফেব্রুয়ারি তিনি বর্তমান রামু খিজারি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং ১২ ই ফেব্রুয়ারি ২০০৬ সালে অবসর গ্রহণ করেন।অবসরের পরেও তিনি বিদ্যালয়ের টানে,শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ২০১১ সাল পর্যন্ত রামু খিজারি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সময় দেন।২০১৫ সাল থেকে অধ্যাবদি তিনি রামু উপজেলার রশিদ নগর ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পানির ছড়া এসএইচডি মডেল হাই স্কুলে সময় দিচ্ছেন।তাঁর একান্ত প্রচেষ্টা এবং অভিজ্ঞতার আলোকে বিদ্যালয়টি প্রতি বছর জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষায় চমকপ্রদ ফলাফল অর্জন করে আসছে।স্যারের একান্ত একটা স্বপ্ন বিদ্যালয়টি কে একটি আদর্শ বিদ্যালয় হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা।সে লক্ষ্যে স্যার দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।এখনও তারুণ্যের মতো কাজ করেন,ক্লাস নেন।একজন আদর্শ শিক্ষকের পাশাপাশি আবদুল হালিম স্যার একজন দক্ষ নেতাও।যাঁর প্রমাণ পাওয়া যায় স্যারের জীবনী পর্যালোচনা করলে।১৭৭৩ সালে তিনি বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি রামু উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক,১৯৯৮ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কক্সবাজার জেলার সহ সাধারণ সম্পাদক,২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সততা,নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতার সহিত কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।মধ্যে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।পেশাগত জীবনে যেমন সফল,তেমনি সফল তিনি একজন আদর্শ স্বামী হিসাবে,সন্তানের কাছে তিনি একজন আদর্শ পিতা হিসেবে।বিবাহিত জীবনে তিনি ৫ ছেলে ও ২ কন্যার জনক।বড় ছেলে বজলুস সাত্তার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতের উপর অনার্স করেছেন।দ্বিতীয় ছেলে সরওয়ার কামাল একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছেন।বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম বিডব্লিউটিএ তে হিসাব সহকারী পরিচালক। তৃতীয় ছেলে রফিকুল ইসলাম চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করে বৃত্তি নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাতে অবস্থান করছেন।চতুর্থ ছেলে শফিকুল ইসলাম এসএসসি শেষ করে বাড়ির দেখাশোনা করছেন।ছোট ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যান্ড এডমিনিস্ট্রেশনে অধ্যয়নরত।মেয়েদের মধ্যে বড় মেয়ে আনোয়ারা বেগম এসএসসি পাশ।বর্তমানে গৃহিণী।ছোট মেয়ে ফাহমিদা ইয়াছমিন তুম্পা মাস্টার্সে অধ্যয়নরত।স্যারকে জীবনের প্রাপ্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে বলেন,বি কম শেষ করে অদ্যাবধি পর্যন্ত শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি এটাই আমার বড় প্রাপ্তি।স্যারের উত্তর শুনে স্তব্ধ হওয়া ছাড়া উপায় নেই।যেখানে মানুষ অবসর পরবর্তী সময় একটু নিজের মতো করে অতিবাহিত করে সেখানে স্যার ব্যতিক্রম।এখনও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন।নিজের কাছে থাকা জ্ঞানের রসদ আদান প্রদান করে চলছেন।স্যার বয়সের দিক দিয়ে বৃদ্ধ হলেও মনের দিক দিয়ে এখনও তারুণ্যে ভরা টগবগে যুবকের মতো।কখনও শ্রেণী কক্ষে শিক্ষার্থীদের ,কখনও অফিস কক্ষে  শিক্ষকদের সাথে মনের ভাব আদান প্রদান করে যাচ্ছেন।যা সত্যিই বিরল দৃষ্টান্ত।স্যারের হাত দিয়ে বের হয়েছে কক্সবাজার রামুর বর্তমান সাংসদ,রামু উপজেলার বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান,অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সিনিয়র সচিব,উপাধ্যক্ষ,প্রফেসার,শিক্ষক,ইঞ্জিনিয়ার,ডাক্তার,সহ অগণিত আলোকিত মানুষ।স্যারের শেষ স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে বলেন,বর্তমানে তিনি যেখানে আছেন মানে পানির ছড়া এসএইচডি মডেল হাই স্কুল কে একটা অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত শিক্ষকতায় জড়িয়ে থাকা।
মহান স্রষ্টা স্যারের মনের আশা পূর্ণ করুক।স্যার কে দীর্ঘ এবং সুস্থ জীবন দান করুক।আবদুল হালিম স্যারের মতো শিক্ষাগুরুরা মানুষের মাঝে বেঁচে থাকুক অনন্ত কাল ধরে।