রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২০||২০ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন  [email protected]

প্রচ্ছদ » কক্সবাজার সংবাদ » কক্সবাজারে সক্রিয় জেল ফেরত ‘মিজান-সাদ্দাম’ বাহিনী

কক্সবাজারে সক্রিয় জেল ফেরত ‘মিজান-সাদ্দাম’ বাহিনী

আপডেট : ০২ জুলাই, ২০২০ , সময়ঃ ০৫:১৬ অপরাহ্ন

ছবি সংগৃহীত

বিশেষ প্রতিবেদক :

বেশ কিছু নামি-দামি অস্ত্র নিয়ে কক্সবাজার শহরের ক্রাইমজোন এলাকা রুমালিয়ারছড়ার পাহাড়ি এলাকা নিয়ন্ত্রনে নিয়েছে একটি অপরাধী চক্র। চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি ও জেল ফেরত আসামীরা এলাকায় নতুন করে সংগঠিত হয়ে গড়ে তুলছে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপ। গ্রুপের অধিকাংশই রোহিঙ্গা। রয়েছে কিশোর অপরাধীরাও। আবারও সেই আগের মত অপহরণ, ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এই গ্রুপটি।

ওই এলাকার আলোচিত সন্ত্রাসী সিফাত ও আরফাত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পরপরই এলাকাটি নিয়ন্ত্রণে নেন মিজান ওরফে বার্মায়া মিজান এবং সাদ্দাম বাহিনীর লোকজন। বর্তমানে সেখানে গ্রুপ তৈরি করে অপরাধ কার্যক্রম চালাচ্ছে মিজান ও সাদ্দাম বাহিনী। তাদের কাছে রয়েছে রাইফেল সহ বিভিন্ন অস্ত্রও।

দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া, বাঁচার মিয়ার ঘোনা, তারাবনিয়ারছড়া, সমিতি বাজার, সাহিত্যিকা পল্লী, পল্লান কাটা, সিকদার বাজার, মাটিয়ার তলী, বিজিবি ক্যাম্প, সাত্তার ঘোনা ও কক্সবাজার কারাগারের পিছনে পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান এই গ্রুপটির। দুর্গম এলাকায় নিরাপদে অবস্থান করে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে সাদ্দাম ও মিজান বাহিনী।

বার্মায়া মিজান তারাবনিয়ার ছড়া কবরস্থান রোড এলাকার আবু তালেবের ছেলে। সাদ্দাম হোসেন সমিতি বাজার এলাকার আব্দু সালামের ছেলে বলে জানান গেছে।

হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও অপহরণসহ বেশ কয়েকটি মামলাও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। দুুইজনেই টানা তিন বছর জেল কেটে সম্প্রতি বের হয়ে নতুন করে সন্ত্রাসী গ্রুপ গড়ে তুলেছে। স্থানীয় পুলিশ বাহিনীও এসব সন্ত্রাসীদের বিষয়ে অবগত রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বার্মায়া মিজানের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ প্রায় ৭টি মামলা রয়েছে। বেশ কয়েকটি মামলায় টানা দুইবার কারাগারেও ছিলেন মিজান। বন্দুকসহ আটকের ঘটনায় প্রায় তিনবছর আগে কারাগারে যান তিনি। গত ৮ মাস আগে বের হন কারাগার থেকে। কারাগার থেকে বের হয়ে ফের এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছে। সহযোগী সাদ্দামকে নিয়ে গড়ে তুলেছে শক্তিশালী সন্ত্রাসী বাহিনী। তার বাহিনীতে রয়েছে ১২ জনের মতো সক্রিয় সদস্য।

মিজানের অন্যতম সহযোগী সাদ্দামের রয়েছে প্রায় ৬টি মতো মামলা। তারমধ্যে দুইটি হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি। তিনিও ৬ মাস আগে বের হন কারাগার থেকে। গত ৫ মাস ধরে সমিতি বাজার, সিকদার বাজার, মাটিয়ার তলী, ও পল্লান কাটা এলাকায় ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে তারা। ভয়ে কেউ মুখও খুলছে না। তারা এলাকা থেকে সহজে বের হয় না। এলাকার মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নেন তারা।

এবিষয়ে কক্সবাজার শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, সাদ্দাম ও মিজান চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাদের একটি গ্রুপও রয়েছে। দুর্গম পাহাড়ের ভিতর তাদের অবস্থান। দুর্গম এলাকা হওয়ায় সেখানে অভিযান করাও কষ্টকর। তবুও সেখানে বেশ কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছিল তাদেরকে আটকের জন্য। এমনকি এলাকার অনেক মহিলাও এসব সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিয়ে থাকে। দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় তাদের পাহারা দেয় এসব পাহাড়ে বসবাস করা মহিলারাও। তারপরও তাদের আটকে চেষ্টা চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সন্ত্রাসী মিজান ও সাদ্দামের অন্যতম সহযোগী হিসেবে রয়েছে দক্ষিণ পল্লান কাটা এলাকার জালালের ছেলে হাবিবুল্লাহ, সিকদার বাজার এলাকার মোহাম্মদ ওরফে পুদিনার ছেলে রানা, বাঁচা মিয়ার ঘোনা এলাকার আবুল বশরের ছেলে তানভির হত্যা মামলার আসামী মো. আতিক ও মিজানুর রহমান এবং দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া এলাকার নুরুল আলমের ছেলে মামুন। দুই সপ্তাহ আগেও গডফাদার সাদ্দামকে রাইফেলের গুলি ৭.৬৫ সরবরাহ দেন ইয়াবা কারবারি মামুন।

এই বাহিনীর কাছে রয়েছে দেশিয় বন্দুকসহ নাইন এম এম পিস্তল ও রাইফেলের গুলি। কারাগার থেকে বের হয়ে মিজান ও সাদ্দাম নতুন করে গ্রুপ গড়ে তুলেছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে অপহরণ করে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যান মিজান ও সাদ্দাম। টানা কয়েকজন আটকের পর মুক্তিপণ দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাও রয়েছে। এলাকায় জমি ক্রয়-বিক্রয়ে তাদের দিতে হয় চাঁদাও।

এবিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে কক্সবাজার সদর থানার ওসি শাহজাহান কবির বলেন, সন্ত্রাসী সাদ্দামের বিষয়ে আমি শুনেছি। বাকি অপরাধীদের বিষয়ে এখনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া কেউ সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে তাদের আটক করতে সুবিধা হবে। পুলিশ সবসময় সজাগ রয়েছে অপরাধীদের ধরতে। ইতোমধ্যে অনেক সন্ত্রাসীকে আটকও করা হয়েছে। দ্রুত সময়ে সাদ্দামসহ তার সহযোগীদের আটক করা হবে।


সর্বশেষ সংবাদ

বিজ্ঞাপন

শিরোনাম